সারাদেশ

তদারকি কর্মকর্তা অনুপুস্থিত উদাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ভিজিডি চালের অবৈধ বাণিজ্য ও কালোবাজারির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

তদারকি কর্মকর্তা অনুপুস্থিত উদাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ভিজিডি চালের অবৈধ বাণিজ্য ও কালোবাজারির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
📷 ছবি: সংগৃহীত
তদারকি কর্মকর্তা অনুপুস্থিত উদাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ভিজিডি চালের অবৈধ বাণিজ্য ও কালোবাজারির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

​মোঃ রেজাউল করিম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:


গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি নিয়ম ও তদারকি কর্মকর্তার অনুপস্থিতিকে পুঁজি করে ভিজিডির (VGD) চাল প্রকাশ্যে কালোবাজারে বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সরকারের মহৎ উদ্যোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে খোদ ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এবং চেয়ারম্যানের সরাসরি উপস্থিতিতে এই অনিয়ম ও চাল কালোবাজারে বিক্রির ঘটনা ঘটে, যা দণ্ডনীয় অপরাধের শামিল।
​গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সরেজমিনে সংগৃহীত তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা যায়, ওই দিন উদাখালী ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডির চাল বিতরণের কথা ছিল। তবে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হলেও ঘটনাস্থলে কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। অথচ বিধি লঙ্ঘন করে ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরেই উপকারভোগীদের প্রাপ্য চাল প্রকাশ্যে কালোবাজারে বিক্রি করতে দেখা গেছে।​সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, ভিজিডির চাল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণের বিধান রয়েছে। এই চাল বিক্রি বা আত্মসাৎ করার কোনো সুযোগ নেই। অথচ কার্ডধারী হতদরিদ্র নারীদের এই চাল পরিষদ চত্বরেই এই অবৈধ বাণিজ্যের মহোৎসব চালানো হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি ফৌজদারি অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।

​আইনজীবীদের মতে, ভিজিডির চাল বিতরণ কার্যক্রমে ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতি এবং ইউনিয়ন পরিষদের প্রাঙ্গণে বসে চাল বিক্রি করা বা আত্মসাৎ করার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, সচিব কিংবা ডিলার কঠোর আইনি ব্যবস্থার আওতায় আসার যোগ্য। এহেন অপরাধ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার এবং স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী পদ থেকে সাময়িক কিংবা স্থায়ী বরখাস্তের সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।

​অভিযোগের বিষয়ে উদাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি দায় এড়িয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, "সুবিধাভোগীরা চাল বিক্রি করলে আমি কী করব?" তার এই বক্তব্য দায়িত্বহীনতা ও অপরাধের প্রচ্ছন্ন সমর্থনের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছে স্থানীয় সচেতন মহল।
​অতিদরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রাপ্য চাল এভাবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে কেনা বেচার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিক সমাজ।


গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি