বাংলাদেশ

সিলেটে সাবেক আ.লীগ নেতা, তাঁর স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

সিলেটে সাবেক আ.লীগ নেতা, তাঁর স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
📷 ছবি: সংগৃহীত
সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহপরিচারিকা মালু বেগমের (৭৬) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নৃশংস এই ঘটনাটিকে 'ট্রিপল মার্ডার' হিসেবে ধরে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বুধবার সকালে রায়নগরের ১১১১ নম্বর বাসা থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা এবং সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক ছিলেন। এই দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে দুজন যুক্তরাজ্যে ও দুজন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। বাসায় ওই গৃহপরিচারিকাকে নিয়েই সস্ত্রীক থাকতেন তিনি।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও ডিবির একটি বিশেষ টিম সুরতহাল ও আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের সময় এলাকাটিতে বিদ্যুৎ না থাকায় বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা সচল ছিল না। ফলে ঘাতকেরা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সুযোগে নাকি আগে থেকেই অবস্থান করছিল, তা নিশ্চিত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, ঘরের আলমারি ও ড্রয়ার খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। মালামাল বা স্বর্ণালঙ্কার লুট হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি দলিল উদ্ধার করা হয়েছে, যা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডাকাতি, পারিবারিক শত্রুতা কিংবা রাজনৈতিক বা জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধ- সব দিক মাথায় রেখে সিআইডি, পিবিআই ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।

নিহত আব্দুস সাত্তারের ভাগনে মুন্না মিয়া জানান, সকাল ৯টার দিকেও মামা-মামির সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছিল। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, সকাল ৯টার পরই যেকোনো সময় দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।