পলাশবাড়ীতে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
আমিরুল ইসলাম কবির,
স্টাফ রিপোর্টারঃ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জমি-জমা সংক্রান্ত বিবাদের জেরে একের পর এক মামলা, হুমকি-ধামকি,মারধর,বাড়িঘর ভাংচুর এবং মাদক ব্যবসায়ীর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পুনরায় ঘর বাড়ী ভাংচুর,আগুন লাগিয়ে বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ও খুন জখমের প্রতিবাদে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ২২শে সেপ্টেম্বর বিকালে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব পলাশবাড়ী উপজেলা শাখা কার্যালয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন,পলাশবাড়ী উপজেলার ৬নং বেতকাপা ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের মৃত মোসলেনী উদ্দিন মন্ডলের ছেলে মো. মোন্নাফ মন্ডল মিঠু।
তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, জমি জমা সংক্রান্ত বিবাদের জেরে বিগত ১৯/০৬/১৯৮৯ তারিখে বিবাদী একই গ্রামের মৃত করিম মন্ডলের ছেলে মো. মতলুবর রহমান ও বজলুর রহমান গং-রা তাদের নিজেদের বাড়ীতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা গাইবান্ধা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের (মামলা নং-জিআর ২৮/৮৯) করেন। বিচারক গত ০৬/১১/১৯৯১ তারিখ মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আমাদের পক্ষে রায় প্রদান করেন।
উক্ত বিবাদী মতলুবর রহমান গং-রা মামলায় হেরে গিয়ে আমাদের ২ একর ৯৮ শতাংশ জমির মধ্যে ১৯৫৬ সালে একটি জাল বা ভুয়া দলিল দেখিয়ে মতলুবর রহমানসহ ৩২ জন একত্রে ১ একর ৬৫ শতাংশ জমি দাবী করে পলাশবাড়ী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ২০০৯ সালে একটি বাটোয়ারা ৬২ এর এসএ রেকর্ড স্যুট মামলা নং-৩৯/০৯) দায়ের করেন।
পরবর্তীতে ১৩/০৯/১৫ তারিখে মোন্নাফ মন্ডল মিঠু আদালতে ওই মামলার লিখিত জবাব দাখিল করেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। পূর্ব থেকেই ওই সমস্ত আবাদী জমি ও বসতবাড়ীতে আমরা চাষাবাদ ও বসবাস করে আসছি।
এদিকে;বাটোয়ারা মামলা চলাকালীন সময়ে উক্ত মতলুবর রহমান গং-রা তাদের পক্ষের গাইবান্ধা সদর থানার পীরগাছা গ্রামের মো. টুটুল মিয়ার ছেলে মো. মামুন মিয়াকে বাদী বানিয়ে গত ১২/০৯/২৬ তারিখে পলাশবাড়ী থানায় আমাদের ৬ জনের নামে একটি মিথ্যা মামলা নং- ১১/২২৭ দায়ের করে। বর্তমানে উক্ত মামলায় আমরা জামিনে আছি। পরে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাইবান্ধা আদালতে সদর থানার পীরগাছা গ্রামের মোঃ ফজলুর রহমানের পুত্র মো. আব্দুর রউফ বাদী হয়ে আমাদের ১২ জনের নামে গত ৩১/০৮/২০২৬ তারিখে একটি পিটিশন মামলা নং ৬০২/২০২৬ দায়ের করে। এক পর্যায়ে গত ২৭/০৮/২৬ সন্ধ্যায় আমার ছোট ভাই আমিনুল ইসলাম মন্ডলের স্কুল পড়ুয়া ছেলে মো. লাবিব মন্ডলকে (১৬) মতলুবর রহমান ও বজলুর রহমান গং-দের লোকজন তুলসীঘাট প্রাইভেট পড়ে আসার সময় সন্ধ্যার দিকে অপহরণ করে এবং তার মোবাইল ছিনিয়ে নেয় ও মারধর করে। পরে ৯৯৯ এ ফোন করে সহযোগিতা চাইলে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে লাবিবের পিতা মো. আমিনুল ইসলাম গাইবান্ধা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
এরপর আমি আমাদের পক্ষের মোন্নাফ মন্ডলের স্ত্রী লাইজু বেগম গাইবান্ধা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট এর ২নং আদালতে বিবাদী বজলুর রহমান গং-দের বিরুদ্ধে নিরাপত্তার জন্য ১০৭/১১৭ (সি) মামলা দায়ের করেন। আবার ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম গাইবান্ধার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ২নং আদালতে নিরাপত্তার জন্য ২১/১০/২৬ তারিখে একটি ফৌজদারী কার্যবিধি ১০৭/১১৭ (সি) পিটিশন মামলা দায়ের করেন।
শেষে নিম্ন স্বাক্ষরকারী গাইবান্ধা বিজ্ঞ আমলী আদালত, পলাশবাড়ী বিবাদী মো. বজলুর রহমান গংদের বিরুদ্ধে ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/৩৫৪/৫০৬ (২) ১১৪/৩৪ দঃ বিঃ একটি জিআর মামলা দায়ের করেন।
এসব বিষয় সুবিধা করতে না পেরে এবং বিবাদী মতলুবর রহমান ও বজলুর রহমান গং-রা আমাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার মিথ্যা অপরাদ ও অপপ্রচার চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে উক্ত মতলুবর রহমান ও বজলুর রহমান গং-রা আমাদের ঘর-বাড়ি ভাংচুর, আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে বাড়ি থেকে উচ্ছেদসহ খুন জখমের ভয়ভীতি ও হুমকি,জোর পূর্বক ফসল কর্তন করে বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করবে মর্মে আমরা আতঙ্কিতসহ পরিবার পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী,গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার,গোয়েন্দা বিভাগ, পলাশবাড়ী থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আমাদের ও পরিবার পরিজনের জান মালের নিরাপত্তা এবং হেফাজতে সহযোগিতা কামনা করছি।
এসময় ভুক্তভোগী মোন্নাফ মন্ডলের ছোট ভাই আমিনুল ইসলাম মন্ডল,তার স্ত্রী মোছা: লাকী বেগম,এসএসসি পরীক্ষার্থী ছেলে মো. লাবিব মন্ডল,নওশা মন্ডল,লাইজু বেগম,হামিদা বেগম তার মেয়ে মিতু আক্তার ও সখিনা বেগম সহ পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।।
পলাশবাড়ীতে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
📷 ছবি: সংগৃহীত