বাংলাদেশ

সুন্দরবনের প্রকৃতির ভয় পেরিয়ে দস্যু আতঙ্কে পর্যটক ও বনজীবীরা

সুন্দরবনের প্রকৃতির ভয় পেরিয়ে দস্যু আতঙ্কে পর্যটক ও বনজীবীরা
📷 ছবি: সংগৃহীত
সুন্দরবনের প্রকৃতির ভয় পেরিয়ে দস্যু আতঙ্কে পর্যটক ও বনজীবীরা
‎==============
‎এসকে এম মহসিন রেজা
‎উপজেলা প্রতিনিধি (খুলনা)


‎সুন্দরবনে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষের জন্য ঝুঁকির শেষ নেই। নদী-খালে রয়েছে কুমিরের ভয়, বনের ভেতরে বাঘের আতঙ্ক, আর গাছের ডালে বিষধর সাপের উপস্থিতি। মাছ, কাঁকড়া, মধু কিংবা গোলপাতা সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত এসব ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হয় বনজীবীদের।


‎তবে প্রকৃতির এসব ভয়কে ছাপিয়ে বর্তমানে বনদস্যু ও জলদস্যুদের আতঙ্কই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বলে দাবি স্থানীয় বনজীবীদের। তাদের অভিযোগ, সুন্দরবনে দীর্ঘ সময় মানুষের প্রবেশ বন্ধ থাকায় গহিন বনে দস্যুদের তৎপরতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বনে প্রবেশের পর অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি কিংবা প্রাণনাশের হুমকির শিকার হওয়ার আশঙ্কায় অনেক জেলেই উদ্বিগ্ন।


‎কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত টহলের দাবি


‎বনজীবীরা বলছেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিষ দিয়ে মাছ ধরা ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে বন বিভাগের কঠোর নজরদারি যেমন প্রয়োজন, তেমনি জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহলও জরুরি।


‎তাদের দাবি, ১ সেপ্টেম্বর থেকে পাস-পারমিট নিয়ে শত শত নৌকা সুন্দরবনের নদী-খাল ও গহিন অরণ্যে প্রবেশ করবে। এ সময় কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল জোরদার করা হলে বনজীবীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়বে।


‎দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবন খুলছে- এটি উপকূলের হাজারো বনজীবীর কাছে নতুন করে বেঁচে থাকার সুযোগ। কিন্তু মাছ-কাঁকড়া আহরণের সুযোগের সঙ্গে যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে তাদের এই যাত্রা কেবল জীবিকার সন্ধান নয়, হয়ে উঠবে জীবন বাজি রাখার আরেক অধ্যায়।


‎সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি বননির্ভর মানুষের নিরাপদ জীবিকার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করাই এখন উপকূলবাসীর অন্যতম প্রত্যাশা।


‎খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. সাজমিনুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে জেলে-বাওয়ালি ও পর্যটকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রজনন মৌসুমে বনের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন থেকে নির্ধারিত নিয়ম-কানুন ও বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে জেলে-বাওয়ালিরা মাছ ও কাঁকড়া আহরণ এবং পর্যটকরা সুন্দরবন ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে বনের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।