নোয়াখালীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান
মোহাম্মদ উল্যা
বিশেষ প্রতিনিধি
কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী।
দেশব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে নোয়াখালীতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ, আবর্জনা পরিষ্কার এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সারাদেশের সঙ্গে নোয়াখালীতেও কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নিজেদের সুস্থ রাখতে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও সবাইকে নিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজ নিজ বসতবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, আবর্জনা ও ময়লা যেখানে-সেখানে না ফেলে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। একটি পরিচ্ছন্ন পরিবার থেকেই পরিচ্ছন্ন সমাজ ও দেশ গড়ে উঠতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ড. মো. শেখ ছাদেক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শান্তনু কুমার দাশ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ইয়াছিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহাবুব আলমগীর আলোসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকরা।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল শনাক্ত করে তা ধ্বংস করা, বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর লক্ষণ, প্রতিরোধের উপায় এবং পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হবে।
সরকার ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে। প্রতি শনিবার দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এডিস মশা সাধারণত মানুষের বসতবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, প্লাস্টিকের বোতল, টায়ার, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি।
তাদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে শুধু কর্মসূচি বা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বছরজুড়ে ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নাগরিকদের নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে এডিস মশার প্রজননস্থল কমানোর পাশাপাশি ডেঙ্গুর ঝুঁকিও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
নোয়াখালীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান
📷 ছবি: সংগৃহীত