সারাদেশ

চলন্ত সিএনজি থেকে নবজাতককে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, তরুণী ও চালক আটক

চলন্ত সিএনজি থেকে নবজাতককে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, তরুণী ও চালক আটক
📷 ছবি: সংগৃহীত
চলন্ত সিএনজি থেকে নবজাতককে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, তরুণী ও চালক আটক

মোহাম্মদ উল্যা

বিশেষ প্রতিনিধি:
কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে চলন্ত সিএনজি অটোরিকশা থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ এক ছেলে নবজাতককে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় ওই তরুণী ও সিএনজি চালককে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালের সামনে চলন্ত সিএনজি থেকে একটি নবজাতক রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফেনীর স্টার লাইন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় সিএনজি চালকসহ ওই তরুণীকে আটক করে পুলিশ। পরে তরুণীকে চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই তরুণীর দাবি, পাশের বাড়ির এক যুবকের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি ওই যুবককে জানালে তিনি বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তরুণী। তবে পরবর্তীতে ওই যুবক ও তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং তার পরিবারকে হুমকি ও অপবাদ দেওয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তরুণীর ভাষ্য, শুক্রবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সিএনজি চালক সামসুর সঙ্গে তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশে রওনা হন। পথেই সিএনজির ভেতরে তার সন্তান প্রসব হয়। পরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য জরুরি বিভাগে গেলে কর্তব্যরতদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে নবজাতককে হাসপাতালের সামনে রেখে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

তবে সিএনজি চালক সামসুর দাবি, ওই তরুণী তার ভাগ্নি। তিনি কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে তরুণীর বাড়ি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নে বলে জানা গেছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন দাস বলেন, “চিকিৎসা শেষে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। নবজাতককে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি ইচ্ছাকৃত ছিল, নাকি প্রসবজনিত আকস্মিক পরিস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটেছে—তদন্তের পর তা স্পষ্ট হবে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, চিকিৎসা প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।