বাংলাদেশ

আমদানির ধাক্কায় কমছে কাঁচামরিচের দাম, বেনাপোলে পাঁচ দিনে ৮০ টন

আমদানির ধাক্কায় কমছে কাঁচামরিচের দাম, বেনাপোলে পাঁচ দিনে ৮০ টন
📷 ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিন পর ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হওয়ায় দেশের সীমান্তবর্তী বাজারগুলোতে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আট মাস বন্ধ থাকার পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে মাত্র পাঁচ দিনে ৮০ টন কাঁচামরিচ দেশে এসেছে। আমদানি বাড়ায় শার্শা ও বেনাপোলের বাজারে কাঁচামরিচের দাম অর্ধেকেরও বেশি কমেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েকদিন আগেও বাজারে সরবরাহ কম থাকায় কাঁচামরিচের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চাপ তৈরি হয়। তবে ভারতীয় কাঁচামরিচ বাজারে আসতে শুরু করায় বর্তমানে প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বেনাপোল স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৩ আগস্ট) প্রথম চালানে একটি ভারতীয় ট্রাকে ৯ হাজার ২০০ কেজি কাঁচামরিচ আসে। পরদিন মঙ্গলবার তিনটি ট্রাকে আরও ৪২ হাজার ২২০ কেজি এবং বৃহস্পতিবার একটি ট্রাকে ১৪ হাজার কেজি কাঁচামরিচ আমদানি করা হয়। সর্বশেষ শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় আরও ১৫ হাজার কেজি কাঁচামরিচ নিয়ে একটি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে। সব মিলিয়ে পাঁচ দিনে আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০ টন।

আমদানি করা কাঁচামরিচ দ্রুত খালাস করে দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পাঠানো হচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি দামও কমতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, ভারত থেকে আমদানি অব্যাহত থাকলে সরবরাহ আরও বাড়বে এবং কাঁচামরিচের দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকার নিচেও নেমে আসতে পারে।

আমদানিতে খরচ কত?

আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে প্রতি টন কাঁচামরিচ প্রায় ৩০৫ মার্কিন ডলারে কেনা হচ্ছে। শুল্ক, পরিবহনসহ অন্যান্য ব্যয় যোগ করে দেশে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ আনতে প্রায় ১৩৫ টাকা খরচ হচ্ছে। বাজারে তারা তুলনামূলক কম লাভে পণ্য বিক্রি করছেন, যাতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।

তবে আমদানিকারকদের অভিযোগ, কাস্টমসের বিভিন্ন প্রক্রিয়া এবং পণ্য খালাসে বিলম্ব হলে অতিরিক্ত খরচ বাড়ছে। এতে একদিকে আমদানিকারকদের ব্যবসায়িক ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে বাজারে আমদানির গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

দ্রুত খালাসে গুরুত্ব

বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় কাঁচামরিচের চালান পৌঁছানোর পর দ্রুত কাস্টমস ও বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পরে এসব কাঁচামরিচ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি বাজারে পাঠানো হচ্ছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর পর দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান শিমু এন্টারপ্রাইজ। পণ্য খালাসের কাজে সহযোগিতা করছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শিমু শিপিং লাইনস ও রয়েল এন্টারপ্রাইজ।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে কাঁচামরিচের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমতে পারে। এতে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের ওপর বাড়তি দামের চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।