বাংলাদেশ

বর্ণাঢ্য আয়োজনে ইবিতে শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম জন্মাষ্টমী উদযাপিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে ইবিতে শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম জন্মাষ্টমী উদযাপিত
📷 ছবি: সংগৃহীত
বর্ণাঢ্য আয়োজনে ইবিতে শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম জন্মাষ্টমী উদযাপিত



ওসমান গণি, ইবি সংবাদদাতা:
পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় পূজা উদযাপন পরিষদ। এ উপলক্ষে শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ স্থাপন, পূজা ও প্রার্থনা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, গীতাপাঠ ও কীর্তন, ধর্মালোচনা, প্রসাদ বিতরণ এবং ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ স্থাপনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় পূজা ও প্রার্থনা শেষে সাড়ে ১০টায় ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয় পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

পরে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে ধর্মালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহার সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ ও শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন বাবর ফিরোজ।

ধর্মালোচনায় প্রধান আলোচক ছিলেন মানিকগঞ্জের শিবালয়ের উথলী রাধামদন গোপাল মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ বৈষ্ণবাচার্য অদ্বৈতবংশদ্ভব নন্দলাল গোস্বামী। বিশেষ আলোচক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. গৌতম কুমার দাস, অধ্যাপক ড. তপন কুমার রায় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্রী গৌতম চন্দ্র সরকার। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার পাল বলেন, “শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমীর আয়োজনটি শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও অংশগ্রহণমূলক চেতনার প্রতিচ্ছবি। এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে সনাতনী শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় চর্চার জন্য একটি স্থায়ী মন্দির নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “সনাতনী শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক ইসলামিক কোর্সের ক্ষেত্রে তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং একাডেমিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রশাসন বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করি। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতেই একটি অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ গড়ে উঠবে।

উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও উঁচু-নিচুর বিভাজন ভুলে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় সত্তা গড়ে তোলাই আমাদের চেতনা হওয়া উচিত। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব ধর্মের মানুষের মর্যাদা, সম্মান ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাণী ধারণ করে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে দেশ বিনির্মাণে এগিয়ে যাবে এবং বাংলাদেশ বিশ্বে একটি অসাম্প্রদায়িক, সম্প্রীতিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”


ইবি সংবাদদাতা
নামঃ ওসমান গণি
তারিখঃ ০৫-০৯-২৬