‘দলের জন্য সব উজাড় করেছি, মূল্যায়ন পাইনি’—শিক্ষাসনদ পুড়িয়ে বিএনপি কর্মীর ক্ষোভ
মোহাম্মদ উল্যা
বিশেষ প্রতিনিধি
কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী।
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর পারিবারিক ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে নিজের শিক্ষা জীবনের অর্জিত সব সার্টিফিকেট পুড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবদুর রহীম তৌহিদ নামে এক বিএনপি কর্মী। তিনি চাপরাশিরহাট ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার চাপরাশিরহাট ইউনিয়নে নিজ বাড়িতে তিনি এসব শিক্ষাসনদ পুড়িয়ে দেন। এ ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
আবদুর রহীম তৌহিদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। রাজনীতির কারণে তাকে পারিবারিক ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময় জেল-জুলুম, মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তৌহিদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং উপজেলা পর্যায়ের দলীয় নেতাদের কাছে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ায় তার মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেও যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিমান থেকেই তিনি শিক্ষাজীবনের সব সার্টিফিকেট পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, “এই সার্টিফিকেট দিয়ে কী হবে? দীর্ঘ বছর নিজের টাকা, শ্রম ও সময় ব্যয় করে বিএনপির রাজনীতি করেছি। দলের জন্য নিজের সব উজাড় করে দিয়েছি। এর কারণে পরিবার ও সন্তানদেরও কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। জেল-জুলুম ও নির্যাতনেরও শিকার হয়েছি।”
তৌহিদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের পরবর্তী সময়ে এবং বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের পর দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীরা অনেক ক্ষেত্রে অবহেলার শিকার হচ্ছেন। তার দাবি, পুরোনো ও ত্যাগী কর্মীদের তুলনায় নতুন করে দলে সক্রিয় হওয়া অনেক নেতাকর্মী বেশি গুরুত্ব ও মূল্যায়ন পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, “দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে ত্যাগ স্বীকার করার পরও যখন প্রত্যাশিত সহযোগিতা ও মূল্যায়ন পাওয়া যায় না, তখন একজন কর্মীর মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। সেই ক্ষোভ থেকেই নিজের জীবনের অর্জিত শিক্ষাসনদগুলো পুড়িয়ে ফেলেছি।”
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলীয় নেতাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, একজন রাজনৈতিক কর্মীর দীর্ঘদিনের অর্জিত শিক্ষাসনদ প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা ব্যতিক্রমী। ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও হতাশা থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে ঘটনাটিকে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার পাশাপাশি এর পেছনে থাকা অভিযোগগুলোও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন কেউ কেউ।
‘দলের জন্য সব উজাড় করেছি, মূল্যায়ন পাইনি’—শিক্ষাসনদ পুড়িয়ে বিএনপি কর্মীর ক্ষোভ
📷 ছবি: সংগৃহীত