রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার এক দিনেই পর্তুগালের ইনস্টাগ্রাম হারাল ৫ লাখের বেশি অনুসারী
📷 ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আকস্মিক বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এর প্রভাব পড়েছে। রোনালদো ক্যাম্প ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর মাত্র এক দিনের মধ্যে পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পাঁচ লাখের বেশি অনুসারী হারিয়েছে।
বুধবার জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার ঘোষণা দেন রোনালদো। এর আগে নরওয়ের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে তাঁকে মাঠে না নামানো নিয়ে তৈরি হয়েছিল আলোচনা। এরপরই রোনালদোকে জাতীয় দলে যথাযথ সম্মান দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়।
পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ‘ডিজিটাল বয়কট’ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন রোনালদোর এক সমর্থক। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা পর্তুগালকে অনুসরণ করিনি, আমরা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অনুসরণ করেছি।’
রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার ঘোষণার আগে পর্তুগাল জাতীয় দলের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অনুসারী ছিল প্রায় ২ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার। ঘোষণার পর প্রথম ১৮ ঘণ্টাতেই কমে যায় ৫ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি অনুসারী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ অ্যাকাউন্টটির অনুসারী দাঁড়ায় প্রায় ২ কোটি ৪৪ লাখে।
নরওয়ে ম্যাচ ঘিরে শুরু হয় টানাপোড়েন
উয়েফা নেশনস লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে ওয়েলসের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের জয়ে পর্তুগালের হয়ে শুরু থেকেই খেলেছিলেন রোনালদো। কোচ হোর্হে জেসুসের ভাষ্য অনুযায়ী, নরওয়ের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে রোনালদোকে না খেলানোর বিষয়ে আগে থেকেই সমঝোতা হয়েছিল। তাঁর পরিবর্তে একাদশে জায়গা পান গনসালো রামোস।
তবে ম্যাচের আগে রোনালদোকে জেসুস জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে প্রায় ৩০ মিনিট খেলানো হবে। ম্যাচ চলার সময় অবশ্য সেই সিদ্ধান্তও পরিবর্তন করেন কোচ। শেষ পর্যন্ত রোনালদোকে মাঠে নামানো হয়নি।
পরে সংবাদ সম্মেলনে জেসুস বলেন, ম্যাচের পরিস্থিতি অনেক কিছু নির্ধারণ করে এবং রোনালদোকে মাঠে নামানোর জন্য তখন সময়টা উপযুক্ত মনে হয়নি।
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে পর্তুগালের অন্য খেলোয়াড়েরা গ্যালারিতে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে দেখা করলেও রোনালদো সরাসরি লকার রুমে চলে যান। পরদিন দলের অনুশীলন ভেন্যুতে গেলেও অনুশীলনে অংশ না নিয়ে ফিরে যান তিনি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রোনালদো, কোচ জেসুস এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পাওলো প্রোয়েনসার মধ্যে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কিন্তু জেসুসের পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
সংবাদ সম্মেলনে জেসুস বলেন, জাতীয় দলে নিয়ম সবার জন্য একই। কোনো খেলোয়াড়ের অতীত বা মর্যাদা মাঠের সিদ্ধান্তে আলাদা সুবিধা দেবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য ছিল, ক্লাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সভাপতির, আর জাতীয় দলে সেই দায়িত্ব কোচের। কোনো খেলোয়াড় কিংবা এমনকি ফেডারেশনের সভাপতিও তাঁর সিদ্ধান্ত বদলাতে পারবেন না।
জেসুসের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর জাতীয় দলের অনুশীলন শুরুর আগেই কোপেনহেগেনের পার্কেন স্টেডিয়াম ছেড়ে যান রোনালদো।
এর কিছুক্ষণ পর ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় রোনালদো জানান, জাতীয় দলের কোচের সংবাদ সম্মেলন এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে আলোচনার পর তিনি ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রোনালদোর এই সিদ্ধান্তের পর মাঠের বাইরেও তার প্রভাব দেখা যায়। জাতীয় দলের ইনস্টাগ্রাম অনুসারীদের বড় একটি অংশ অ্যাকাউন্টটি আনফলো করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।