বাংলাদেশ

রাজশাহীতে কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরি: সাত চোর ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

রাজশাহীতে কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরি: সাত চোর ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
📷 ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহীতে কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরি: সাত চোর ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

রাজশাহী প্রতিনিধি: মাহফুজ আহমেদ
রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজারে কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরির ঘটনায় সাতজনকে এবং চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গ্রেপ্তার সাত চোরের একজনকে খুলনা থেকে এবং অপর ছয়জনকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই স্বর্ণ কেনার সঙ্গে জড়িত স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে ঢাকার একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার স্বর্ণ ব্যবসায়ী হলেন চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার সরকার বাড়ী বড়নীখোলা গ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে রবিউল হাসান (৪৫)। তাঁর কাছ থেকে চুরি যাওয়া ২৬ ভরি স্বর্ণ, ৬২ ভরি রূপা এবং চোরাই স্বর্ণ বিক্রির ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ পাহারায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বৃহস্পতিবার আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুন ভোরে ১০ থেকে ১২ জনের একটি চোরের দল কারুশ্রী জুয়েলার্সের সামনে অবস্থান নেয়। তারা বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রির দোকান বসিয়ে কৌশলে সেখানে জটলা তৈরি করে। একপর্যায়ে পাশের একটি স্বর্ণের দোকানের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ওই দোকানের ভেতর দিয়ে কারুশ্রী জুয়েলার্সের পশ্চিম পাশের দেয়াল কেটে দোকানে ঢোকে।

এরপর চক্রটি সিন্দুক থেকে বাদীর বর্ণনামতে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ, ২ হাজার ২০০ ভরি রূপা, তিন বক্স স্বর্ণের নাকফুল এবং নগদ ২০ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তুর্য সরকার বাদী হয়ে বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন।

পুলিশের ভাষ্য, চক্রটি বছরে এক থেকে দুটি বড় ধরনের চুরি করে থাকে। একটি চুরির আগে তারা তিন থেকে চার মাস ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকা ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের পর নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার পথও নির্ধারণ করে।

কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরির প্রায় চার মাস আগে চক্রটির সদস্যরা রাজশাহীতে এসে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে। তারা ব্যবসার কথা বলে দোকান ও আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করে যায়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে গত পরশু দিবাগত রাতে বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার শেহলাবুনিয়া মোর্শেদ সড়ক গ্রামের মো. ফজলুল হকের ছেলে মো. রুস্তম আলী শেখ (৬৪)-কে খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অন্যদিকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা (মাইল্যারহাট) গ্রামের আ. হাকিমের ছেলে স্বপন (৬২), একই গ্রামের মানিক ফকিরের ছেলে উজ্জল (৩৭), একই থানার মাধবপুরা গ্রামের মতি ফকিরের ছেলে রিয়াজ ওরফে সুমন ওরফে সুজন ওরফে গেদু (৩৯), বাগেরহাট জেলার শরণখোলা থানার খোন্তাকাটা (জিমতলা) গ্রামের মোসাকের ছেলে আবু তালেব (৪৫), একই জেলার শরণখোলা থানার পূর্ব খোন্তাকাটা গ্রামের শেখ ফজলু শেখের ছেলে মো. কালাম শেখ (৪৮) এবং পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা (মাইল্যারহাট) গ্রামের আ. হাকিমের ছেলে ইউনুসকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চোরাই মালামাল কেনার সঙ্গে জড়িত স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণ ও রূপা এবং নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটির চুরি সংঘটনের কৌশল ও অন্যান্য সদস্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।