বাংলাদেশ

‎সুন্দরবনে নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ;বিপুল অস্ত্র গোলাবারুদ জমা দিল সক্রিয় সদস্যরা

‎সুন্দরবনে নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ;বিপুল অস্ত্র গোলাবারুদ জমা দিল সক্রিয় সদস্যরা
📷 ছবি: সংগৃহীত
‎সুন্দরবনে নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ;বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ জমা দিল সক্রিয় সদস্যরা

‎এসকে এম মহসিন রেজা
‎উপজেলা প্রতিনিধি (খুলনা)

সুন্দরবনে দস্যুবিরোধী অভিযানে কোণঠাসা হয়ে এবার কুখ্যাত নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ সক্রিয় ডাকাত সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র, এয়ারগানসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও যোগাযোগের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

‎মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানার সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় তারা কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

‎বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এসব তথ্য জানান।

‎কোস্ট গার্ড জানায়, আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হেমার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রি গ্যাস গান, দুটি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার ও দুটি এয়ারগান জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মিমি পিস্তলের গুলি, পাঁচ রাউন্ড ৮ মিমি তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গোলা, চারটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ছয়টি ওয়াকিটকি জমা দেওয়া হয়।

‎কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারীরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল।

‎আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা। শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরার শ্যামনগর এবং আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাটের রামপাল এলাকার বাসিন্দা।

‎কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনের দস্যু নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান চলছে। এসব অভিযানে এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক এবং দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

‎এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় ডাকাত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

‎কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সুন্দরবনের সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। যারা আত্মসমর্পণ করবে, তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎জব্দ করা অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।