সংরক্ষণ ও পরিচর্যার অভাবে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে ঝিনাইদহের ঐতিহাসিক মল্লিকপুর বটবৃক্ষ
📷 ছবি: সংগৃহীত
ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুইতলা-মল্লিকপুর (বেথুলী মৌজা) এলাকায় অবস্থিত এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ও প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বটবৃক্ষটি যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ বছরের পুরোনো এই ঐতিহাসিক প্রাকৃতির বিস্ময়টি ধীরে ধীরে তার যৌবন ও বিস্তার হারাতে বসেছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
স্থানীয় তথ্যানুযায়ী, কোনো এক সময় পাতকুয়ার ওপর জন্ম নেওয়া এই বটগাছটি কালক্রমে ঝুরি নামিয়ে সুবিশাল রূপ ধারণ করে। ১৯৮৪ সালে বিবিসি’র এক বিশেষ প্রতিবেদনে এটি 'এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম বটবৃক্ষ' হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং আন্তর্জাতিক নজর কাড়ে। পরবর্তীতে গাছটির গুরুত্ব উপলব্ধি করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন আমলে এটি সংরক্ষণে প্রশাসনিক নজর দেওয়া হয় এবং পরিচর্যার প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকারের আমলে ১৯৯০ সালে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে জেলা পরিষদের উদ্যোগে একটি রেস্ট হাউস নির্মাণ করা হয় এবং ২০০৯ সালে বন বিভাগ এটি সংরক্ষণের দায়িত্ব নেয়।
বর্তমান অবস্থা ও দূরবস্থা:
একসময় এটি ১১ একর জমির ওপর বিস্তৃত থাকলেও বর্তমানে এর কার্যকর অস্তিত্ব কমে মাত্র ২ একরের সামান্য বেশি জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে।
বায়বীয় মূল ও শাখা নষ্ট হওয়া: গাছটির বহু ঝুরি ও ডালপালা বয়সের ভারে এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শুকিয়ে ভেঙে পড়ছে। নতুন করে শিকড় বা ঝুরি মাটিতে নেমে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।
রাস্তা ও জনবসতির চাপ: গাছটির তিন দিক ঘিরে রাস্তা তৈরি ও স্থানীয় বসতি গড়ে ওঠায় এটি নিজের স্বাভাবিক গতিতে বাড়তে পারছে না।
পরিত্যক্ত রেস্ট হাউস: পর্যটন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও নির্মিত রেস্ট হাউসটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে, যার সুযোগ-সুবিধা দর্শনার্থীরা পান না।
বন বিভাগের অপর্যাপ্ত পদক্ষেপ: বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকা এবং স্থায়ী নিবিড় পরিচর্যা দলের অভাবে গাছটি এখন অযত্নে রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি:
স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীদের মতে, অবিলম্বে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গাছটিকে বাঁচিয়ে তোলার জন্য বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা প্রয়োজন। গাছের চারপাশের রাস্তা পুনর্নির্ধারণ, ঝুরিগুলোকে সঠিকভাবে মাটিতে নামার অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং সীমানা প্রাচীর নিশ্চিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র বা ইকোপার্ক হিসেবে এটি গড়ে তোলা না হলে এই ঐতিহাসিক প্রাকৃতিক ঐতিহ্য মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে।