সারাদেশ

গাইবান্ধায় প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণে তরুণ সাংবাদিকদের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ

গাইবান্ধায় প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণে তরুণ সাংবাদিকদের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ
📷 ছবি: সংগৃহীত
গাইবান্ধায় প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণে তরুণ সাংবাদিকদের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ

গাইবান্ধায় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্রকৃত ও তরুণ সাংবাদিকদের অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।


এর প্রতিবাদে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধা সার্কিট হাউসের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন একদল তরুণ সাংবাদিক।

বিক্ষোভকারী সাংবাদিকদের অভিযোগ, সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে না। একই ব্যক্তিরা বারবার প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও মাঠপর্যায়ে কর্মরত অনেক নতুন ও তরুণ সাংবাদিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের।

বিক্ষোভকারী সাংবাদিক ও কালবেলার গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি সুমন মিয়া বলেন, গাইবান্ধায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ বা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হলে মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্রকৃত ও তরুণ সাংবাদিকদের অনেকেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। অথচ সাংবাদিকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন—এমন ব্যক্তিদেরও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে একই ব্যক্তিদের বারবার প্রশিক্ষণে সুযোগ না দিয়ে মাঠপর্যায়ে কর্মরত নতুন ও তরুণ সাংবাদিকদের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।



তরুণ সাংবাদিকদের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকতা করছেন এমন কয়েকজন তরুণ সাংবাদিককে বাদ দিয়ে অন্যদের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

বিক্ষোভকারী সাংবাদিক রনি মিয়া বলেন, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ বণ্টনে স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যোগ্যতা ও মাঠপর্যায়ে কাজের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশিক্ষণার্থীদের নির্বাচন করা উচিত।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা তথ্য অফিসের কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমাদ আবীর বলেন, “আমাকে যেটুকু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, আমি সেটুকুই করেছি। এ বিষয়ে আরও কিছু জানার থাকলে যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।”

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন তথ্য অফিসের মাধ্যমে করা হয়েছে। এটি প্রেস কাউন্সিলের একটি কর্মসূচি। প্রশিক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্টরা ভেন্যুতে আসছেন। তবে প্রশিক্ষণার্থীদের বাছাইয়ের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের বাছাই করার কথা না বলেও জানান তিনি।

পরে বিষয়টি গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামানের নজরে এলে তিনি বিক্ষোভকারী তরুণ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি ভবিষ্যতের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে তরুণ সাংবাদিকদের অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে যারা আগে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাদের পুনরায় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করার কথা জানান।

জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পর তরুণ সাংবাদিকরা সার্কিট হাউস ত্যাগ করেন। জেলা প্রশাসককে জেলার অভিভাবক হিসেবে সম্মান জানিয়ে তাঁর দেওয়া আশ্বাসের প্রতি আস্থা রেখে কর্মসূচি শেষ করেছেন বলে জানান বিক্ষোভকারী সাংবাদিকরা।

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় সাধারণত বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, সাংবাদিকতার নীতিমালা, আচরণবিধি, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধসহ পেশাগত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

তরুণ সাংবাদিকদের দাবি, এসব প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের অসন্তোষ কমবে। ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ে কর্মরত নতুন ও তরুণ সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।