ছবির মতো গ্রাম ও জীবনযুদ্ধের অদেখা মহাকাব্য
শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার
এখানে কারও দিন শুরু হয় ভোরের সূর্য ওঠার আগেই গবাদিপশুর খাবারের সংস্থানে, আবার কারও দিন সাবাড় হয়ে যায় কাঠফাটা রোদ কিংবা ঝুম বৃষ্টিতে মাটির বুকে ঘাম ঝরিয়ে। জীবনের চিত্রপটে তাদের নিজস্ব কোনো বড়ো স্বপ্ন থাকে না, বড়ো হয়ে ওঠে কেবল পরিজনের আবদার আর পরিবারের অভাব মেটানোর তাগিদ। প্রতিদিন তারা নিজেদের ছোট ছোট ইচ্ছাগুলোকে আড়ালে ঠেলে দিয়ে পার করে দেন জীবনের পর জীবন। এটাই হচ্ছে ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদেরই বসুন্ধরা বাংলাদেশের গ্রাম্য জীবন।
দূর থেকে গ্রাম দেখলেই মনে হয় চিত্রপট-এ আঁকা এক অপরূপ ছবি। সবুজ শস্যখেত, টলটলে পুকুরের পানি, খোলা আকাশে মেঘের আনাগোনা আর আঁকাবাঁকা মেঠো পথ। কিন্তু এই চোখজুড়ানো রূপকথার আড়ালে লুকিয়ে থাকে অন্য এক বাস্তবতার গল্প- যে গল্পে আকুলতা আছে, নীরব কান্না আছে, আর আছে অসীম না পাওয়ার বেদনা।
শহরের মানুষের চোখে গ্রাম শুধুই ‘শান্তির নীড়’, কিন্তু ভেতরের চিত্রপটে তা সীমাহীন সীমাবদ্ধতা আর সুযোগের অভাবের এক জীবন্ত দলিল। একটু ভালোভাবে বেঁচে থেকে, সন্তানদের মুখে দু বেলা দু মুঠো ডাল-ভাত তুলে দেয়ার জন্য এ দেশের সহজ-সরল মানুষগুলোকে প্রতিদিন এক কঠিন যুদ্ধে নামতে হয়।
তবে এত না-পাওয়ার মধ্যেও তারা দমে যান না। অভাব তাদের নিত্যসঙ্গী, কিন্তু পরাজয় নয়। খুব অল্পতেই জীবনকে গুছিয়ে নেয়ার অদ্ভুত এক জাদু জানা আছে গ্রাম্য এই মানুষগুলোর। বুকভাঙা কষ্টের পর যখন ক্লান্তি আসে, তখনো এক চিলতে অমলিন হাসিতে তারা ভুলিয়ে দেন সারাদিনের সমস্ত যন্ত্রণা।
প্রকৃতির এই সহজ মানুষগুলোর জীবন প্রমাণ করে-গ্রাম বাংলা মানে কেবল সবুজ আর রূপসি দৃশ্যের গল্প নয়। এটি প্রতিদিন অভাবের সাথে লড়াই করার গল্প, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বেঁচে থাকার গল্প, আর শত সীমাবদ্ধতার বেড়াজালে বন্দি থেকেও স্বপ্ন দেখে যাওয়ার এক অনন্য মহাকাব্য।
ছবির মতো গ্রাম ও জীবনযুদ্ধের অদেখা মহাকাব্য
📷 ছবি: সংগৃহীত