নোবিপ্রবিতে ইন্টার্নশিপ বিষয়ক মতবিনিময় সভা, ল্যাবরেটরি স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা
মোহাম্মদ উল্যা
বিশেষ প্রতিনিধি
কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিদ্যালয় ইন্টার্নশিপ বিষয়ক মতবিনিময় সভা ও শিক্ষার্থীদের তৈরি শিক্ষা উপকরণ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। একই সঙ্গে ইন্টার্নশিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আর্থিক সহায়তা বা সম্মানী দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) সেমিনার কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক মো. শাহরিয়ার শফিকের সঞ্চালনায় এবং বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ওয়ালিউর রহমান আকন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ইন্টার্নশিপ শ্রেণিকক্ষে অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে শিক্ষক বা ম্যানেজার হিসেবে গড়ে ওঠার পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলিও বিকশিত করতে পারবে।
তিনি বলেন, শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে সাতটি বিদ্যালয়ে ইন্টার্নশিপ করছে। তবে নোবিপ্রবির নিজস্ব একটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের জন্য বাইরে যেতে হবে না।
উপাচার্য বলেন, “আমরা একটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পর্যায়ে আছি। আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে সেই স্কুল হয়তো দৃশ্যমান হবে, ইনশাআল্লাহ।” বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিকে একটি মডেল স্কুল-কলেজ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
ইন্টার্নশিপে আর্থিক সহায়তার বিষয়ে অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের অর্থায়নে ইন্টার্নশিপ করছে। অর্থসংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ইন্টার্নশিপে অংশ নিতে অনাগ্রহী হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী অর্থবছর থেকে ফোর্থ ইয়ার, ফাইনাল ইয়ার ও মাস্টার্স পর্যায়ের ইন্টার্নশিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বাজেট বরাদ্দের সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ ও শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিন এবং নোয়াখালী জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আবুল কাশেম।
ইন্টার্নশিপে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরে কোষাধ্যক্ষ ও শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, “ইন্টার্নশিপে প্র্যাকটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির কোলাবোরেশন ছাড়া বা ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশনের কো-অপারেশন ছাড়া শিক্ষার পরিপূর্ণতা আসবে না।”
তিনি বলেন, সরকার বিষয়টি উপলব্ধি করছে এবং দীর্ঘ সময় পর হলেও এখন তা বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। আগামী বছর থেকে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ইন্টার্নশিপের জন্য ছোট বা বড় পরিসরে একটি অনারিয়াম দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে ইউজিসিও উদ্যোগ নিতে পারে বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক হাছান উদ্দীন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা বেগম পপি, সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ মো. সিয়াম এবং প্রভাষক মো. মোকাররম হোসেনসহ বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আমন্ত্রিত অতিথি ও শিক্ষকরা। পরে শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ প্রদর্শন করা হয়।
নোবিপ্রবিতে ইন্টার্নশিপ বিষয়ক মতবিনিময় সভা, ল্যাবরেটরি স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা
📷 ছবি: সংগৃহীত