সারাদেশ

হাতিয়ায় শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ অসুস্থ ২১ শিক্ষার্থী

হাতিয়ায় শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ অসুস্থ ২১ শিক্ষার্থী
📷 ছবি: সংগৃহীত
হাতিয়ায় শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ অসুস্থ ২১ শিক্ষার্থী

এক সপ্তাহে একই বিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার, ঝাঁজালো গন্ধ নিয়ে উদ্বেগ

মোহাম্মদ উল্যা

বিশেষ প্রতিনিধি:
কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে ২১ শিক্ষার্থী। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অসুস্থদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। একই ঘটনায় এক অভিভাবক ও হাসপাতালের এক কর্মীও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে ঝাঁজালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। ফলে একই বিদ্যালয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান শুরু হয়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর নবম শ্রেণির দুই ছাত্রী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে যায়। পরিস্থিতি দেখে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। দুপুর ২টা পর্যন্ত সেখানে ২১ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুমাইয়া (১৪), রিহান (১২), সাকিব (১২), ছায়েম (১৩), আরক দেবী (১৪), আরাফাত হোসেন (১৪), লাইজু (১৩), ঐশী (১৩) ও ফরিদা আক্তার (১৩) রয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী মেডিকেল অফিসার বিমান চন্দ্র আশ্চার্য বলেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত ২১ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং সবাইকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে আসা একজন অভিভাবক ও হাসপাতালের এক স্টাফও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন বলেন, প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে আরও কয়েকজন অসুস্থ হলে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, বর্তমানে অসুস্থ শিক্ষার্থীরা আশঙ্কামুক্ত রয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে শ্রেণিকক্ষে ঝাঁজালো গন্ধ থাকার বিষয়টি জানা গেছে। তবে ওই গন্ধের উৎস কী এবং ঠিক কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বা অজ্ঞান হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

একই বিদ্যালয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দফায় শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় ঝাঁজালো গন্ধের উৎস ও সম্ভাব্য কারণ খুঁজে বের করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।