সারাদেশ

মায়ের ছোঁয়ার কোনো বিকল্প নেই' সামাজিক মাধ্যমে সাড়াজাগানো এক করুণ চিত্র

মায়ের ছোঁয়ার কোনো বিকল্প নেই' সামাজিক মাধ্যমে সাড়াজাগানো এক করুণ চিত্র
📷 ছবি: সংগৃহীত
'মায়ের ছোঁয়ার কোনো বিকল্প নেই' সামাজিক মাধ্যমে সাড়াজাগানো এক করুণ চিত্র

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার

প্রতিটি প্রাণীর ভেতরেই মাতৃত্ব এবং মায়ের স্নেহের আকুলতা সমানভাবে বিদ্যমান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে, যা আমাদের আরও একবার ভাবিয়ে তোলে প্রাণিজগতের গভীর অনুভূতির কথা।
ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মিল্ক ভ্যানের পেছনে আঁকা গাভীর ছবিকে সত্যি ভেবে তার ওলানে মুখ ছোঁয়াতে ব্যাকুল হয়ে উঠেছে এক অবুঝ বাছুর। দুধ পানের তীব্র তৃষ্ণা আর মাতৃহারা অবুঝ মনের আকুতি নিয়েই যেন সে ছটফট করছিল নির্জীব সেই ছবির সামনে। হয়তো বাছুরটি তার মা কে চিরতরে হারিয়েছে নয়তোবা কিছুক্ষনের জন্য আলাদা করে রাখা হয়েছে। সেটা বাচছুরটি মেনে নিতে পারেনি। শিল্পের বাণিজ্যিক নিষ্ঠুরতা কিংবা মানুষের চরম অবহেলার কারণে প্রায় জন্মের পরপরই বাছুরকে তার মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে দেয়া হয়। মায়ের যে অধিকার শিশুর ওপর কিংবা সন্তানের যে তৃষ্ণা মায়ের বুকে, তা লুণ্ঠিত হয় মানুষের আধুনিক প্রয়োজন আর বাণিজ্যের ভিড়ে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, জন্মধাত্রী মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন এক ছোট বাছুর খিদের জ্বালায় ও এক টুকরো উষ্ণ ছোঁয়ার আশায় ছটফট করছে। মায়ের খোঁজে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে সে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে একটি দুধের গাড়িকে আঁকড়ে ধরে।
সে তার শক্ত না হওয়া নরম দুটি পায়ের ভর দিয়ে গাড়ির লোহার দেওয়ালে মুখ ঘষে এবং আঁকা ছবিটির বাঁট থেকে দুধ খাওয়ার আকুল চেষ্টা চালাতে থাকে। হয়তো এই শীতল লোহাই তাকে জড়িয়ে ধরবে, হয়তো সেখান থেকেই সে পাবে মায়ের আদর, স্পর্শ আর দুধের কয়েক ফোঁটা তৃপ্তি।
শহরের ইট-কাঠের ব্যস্ত জীবনে এমন এক দৃশ্য থমকে দিয়েছে পথচারীদের। কড়া রোদের মাঝে দুধের গাড়িতে আঁকা গাভীর ওলানের কাছে লাফিয়ে উঠে নিজের মুখ নিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে ছোট্ট বাছুরটি। নিছক একটি বিজ্ঞাপনী ছবির কাছে অবুঝ এই প্রাণীর আকুতি প্রমাণ করে- মায়ের স্পর্শ আর মমতার কোনো বিকল্প নেই।
এ দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষের মধ্যে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, ভিডিও হয়তো কেবল একটি কন্টেইনার ভ্যানের কভার, কিন্তু বাছুরটির কাছে ওটিই ছিল তার আশার আশ্রয়।" মানবতা ও প্রাণিপ্রেম জাগ্রত করার মতো এই দৃশ্যটি মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে মানুষের মতোই প্রাণীদেরও রয়েছে অনুভূতি, আবেগ এবং মাতৃত্বের নিঃশব্দ তীব্র টান।
অবাক করা এই দৃশ্য শুধু ভালোবাসার প্রতীকই নয়, বরং প্রাণিজগতের প্রতি মানুষের সহানুভূতিশীল হওয়ার এক মৌন আহ্বান রেখে যায়।