খেলা

পদ্মা জয় করে ৮৫.৩৩ কিলোমিটার সাঁতারের নতুন জাতীয় রেকর্ড, এরশাদ খানের লক্ষ্য এবার ইংলিশ চ্যানেলে

পদ্মা জয় করে ৮৫.৩৩ কিলোমিটার সাঁতারের নতুন জাতীয় রেকর্ড, এরশাদ খানের লক্ষ্য এবার ইংলিশ চ্যানেলে
📷 ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের দীর্ঘ দূরত্বের সাঁতারে নতুন মাইলফলক গড়েছেন সাঁতারু এরশাদ খান মোরশেদ। ‘অ্যাডভেঞ্চার সুইমিং বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে ‘পদ্মা আল্ট্রা ম্যারাথন সাঁতার ২০২৬’-এ অংশ নিয়ে মৈনট ঘাট থেকে চাঁদপুর মোহনা পর্যন্ত ৮৫.৩৩ কিলোমিটার পথ বিরতিহীনভাবে সাঁতরে অতিক্রম করেছেন তিনি।

প্রবল স্রোত, ঢেউ ও পরিবর্তিত আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ৯ ঘণ্টা ১৫ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন এরশাদ। একদিনে এত দীর্ঘ পথ বিরতিহীন সাঁতরে অতিক্রমের মধ্য দিয়ে দেশের দূরপাল্লার সাঁতারে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

ঐতিহাসিক এই সাঁতারের আয়োজন করে অ্যাডভেঞ্চার সুইমিং বাংলাদেশ। মৈনট ঘাট থেকে চাঁদপুর মোহনা পর্যন্ত পুরো পথে পদ্মার তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণির সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে এরশাদকে। শুরুতে নদীর পানি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্রোত ও ঢেউয়ের তীব্রতা বাড়তে থাকে।
পুরো আয়োজনজুড়ে এরশাদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে পেশাদার উদ্ধারকারী দল খুলনা সাউদার্ন স্প্রিন্টার্স। দলটি সার্বক্ষণিক নজরদারি, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে তাকে সহযোগিতা করে।

চাঁদপুর মোহনায় পৌঁছানোর পর স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী, আয়োজক ও উৎসুক জনতা এরশাদ খান মোরশেদকে সংবর্ধনা জানান। দীর্ঘ সময় সাঁতারের ক্লান্তি থাকলেও সাফল্যের আনন্দে উচ্ছ্বসিত ছিলেন এই সাঁতারু।

এরশাদের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের কঠোর অনুশীলন ও একাধিক সফল দূরপাল্লার সাঁতার। ২০২০ ও ২০২১ সালে তিনি টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত বাংলা চ্যানেল সাঁতার সফলভাবে সম্পন্ন করেন। ২০২১ সালে তিস্তা নদীতে ৪৬ কিলোমিটার এবং ২০২২ সালে পদ্মায় ৩৫ কিলোমিটার সাঁতার কাটেন। ২০২৫ সালে পদ্মায় ৩২ কিলোমিটার পথও সাঁতরে অতিক্রম করেন তিনি। এ ছাড়া পদ্মা, যমুনা ও মেঘনাসহ দেশের বিভিন্ন নদীতে একাধিক দীর্ঘ দূরত্বের সাঁতারে অংশ নিয়েছেন।

তবে ৮৫.৩৩ কিলোমিটারের এই রেকর্ডই এরশাদের শেষ লক্ষ্য নয়। তার স্বপ্ন এবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ইংলিশ চ্যানেল জয় করা।

এরশাদ খান বলেন, তিনি সবসময় নিজেকে বড় চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করাতে পছন্দ করেন। পদ্মার ৮৫ কিলোমিটারের পথ অত্যন্ত কঠিন ছিল। তবে ইংলিশ চ্যানেলের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হলে এমন কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়েই নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। পদ্মার এই সাঁতার তার দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেও জানান তিনি।

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে হলে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, বিশেষ খাদ্যব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের লজিস্টিক সহায়তার পাশাপাশি বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন। এ কারণে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার প্রত্যাশা করছেন এরশাদ ও আয়োজকেরা।

আয়োজকদের মতে, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া গেলে খুব শিগগিরই ইংলিশ চ্যানেল জয়ের প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে পারবেন এরশাদ। দেশের নদীগুলোতে দীর্ঘ দূরত্বের সাঁতারের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা তার আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এরশাদ খানের ৮৫.৩৩ কিলোমিটারের এই রেকর্ড দেশের জলক্রীড়া ও অ্যাডভেঞ্চার সাঁতারে নতুন আগ্রহ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশা, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পদ্মার স্রোত জয় করা এই সাঁতারু এবার আন্তর্জাতিক জলপথে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরবেন।