দলের দুর্দিনে রাজপথে থাকা, মামলা-হামলা ও কারাবরণের মতো প্রতিকূলতা মোকাবিলা করা এবং দীর্ঘদিন সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়া নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপিতে। বিশেষ করে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাদিকুল ইসলাম নান্নুকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কারের ঘটনায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় নেতাকর্মীদের।
সাদিকুল ইসলাম নান্নুকে ঘনিষ্ঠভাবে চেনেন এমন নেতাকর্মীদের ভাষ্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে অত্যন্ত সাধারণ, সাদাসিধে জীবনযাপন করেছেন। দলের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ও সংগঠনের পাশে ছিলেন তিনি। বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে নানা ক্ষয়ক্ষতি ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন বলেও দাবি তাদের।
তাদের প্রশ্ন—দলের দুর্দিনে যেসব নেতাকর্মী সংগঠনের জন্য নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে রাজপথে ছিলেন, তাদেরই যদি পরবর্তীতে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার হতে হয়, তাহলে তৃণমূলের ত্যাগের মূল্যায়ন কোথায়?
স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, সাদিকুল ইসলাম নান্নু একা নন; একই ধরনের অভিযোগে উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আরও অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী সাংগঠনিক পদ হারিয়েছেন বা বহিষ্কারের মুখে পড়েছেন। অথচ তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে কারাবরণও করেছেন।
এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—দল যখন দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে, ঠিক সেই সময়ে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের একটি বড় অংশ কেন সাংগঠনিকভাবে দূরে সরে গেলেন?
স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, কোনো নেতাকে ভুল পথে যাওয়ার অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া, বিষয়টি তদন্ত করা এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা প্রয়োজন। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে যথাযথভাবে পুনর্বিবেচনা বা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তাদের ভাষ্য, রাজনীতির দৃশ্যমান ঘটনার আড়ালে আরও কোনো সাংগঠনিক বা অভ্যন্তরীণ সমীকরণ কাজ করছে কি না—সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
সাদিকুল ইসলাম নান্নুর সমর্থকদের দাবি, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান রেখেই তারা মনে করেন, একজন দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতার বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকা উচিত। একই সঙ্গে প্রকৃত ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক অবদান বিবেচনায় নিয়ে তাদের স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির হাইকমান্ড বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করবে, প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান করবে এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রতি ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
তৃণমূলের প্রশ্ন একটাই—দলের দুঃসময়ে যারা পাশে ছিলেন, সুসময়ে তাদের জায়গা কি দলেই হবে না?
ত্যাগের মূল্য কি বহিষ্কার? ফুলছড়ির সাবেক বিএনপি সভাপতি সাদিকুল ইসলাম নান্নুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন
📷 ছবি: সংগৃহীত