আন্তর্জাতিক

ইরান-আমেরিকা সংঘাত চরম শিখরে, চীনের মধ্যস্থতার আহ্বান; প্রতিরোধের কঠোর অঙ্গীকার তেহরানের

ইরান-আমেরিকা সংঘাত চরম শিখরে, চীনের মধ্যস্থতার আহ্বান; প্রতিরোধের কঠোর অঙ্গীকার তেহরানের
📷 ছবি: সংগৃহীত
ইরান-আমেরিকা সংঘাত চরম শিখরে, চীনের মধ্যস্থতার আহ্বান; প্রতিরোধের কঠোর অঙ্গীকার তেহরানের

আন্তর্জাতিক ডেক্স:

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ওয়াশিংটনের সামরিক চাপ ও কঠোর অবস্থানের মুখে নতিস্বীকার না করার বার্তা দিয়েছে তেহরান। একই সময়ে চীন সামরিক পদক্ষেপ এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আগ্রাসনকারীরা অনুতপ্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ চলবে
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে ইরানের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, কোনো ধরনের বাহ্যিক আগ্রাসনের সামনে ইরান নতিস্বীকার করবে না।
এক বিবৃতিতে পেজেশকিয়ান বলেন, আগ্রাসনকারীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরান পূর্ণ শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে। তার বক্তব্যে তেহরানের কঠোর অবস্থানই স্পষ্ট হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরান সহজে কোনো ছাড় দেবে না বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান চীনের
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, অস্ত্র বা সামরিক শক্তির মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে যুদ্ধের পথ পরিহার করে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
চীনের মতে, সামরিক সংঘাত অব্যাহত থাকলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রক্তপাত বন্ধ করে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংকট সমাধান করাই সবচেয়ে কার্যকর পথ বলে মনে করছে দেশটি।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়ছে অর্থনৈতিক উদ্বেগ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে। বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান এই নৌপথে চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বকে নজিরবিহীন শিল্প বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হতে পারে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক উৎপাদন ও অর্থনীতিতে।
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়তে পারে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপে পড়তে পারে।
এ পরিস্থিতিতে চীনসহ বিভিন্ন দেশ দ্রুত উত্তেজনা কমানো এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে তেহরানের কঠোর অবস্থান এবং ওয়াশিংটনের অনড় মনোভাবের কারণে কূটনৈতিক সমাধানের পথ কতটা সহজ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ইংরেজিতে লিখে দাও