বিশেষ প্রতিবেদন

সূর্যাস্তের ছায়ায় আড়িয়াল বিলের নতুন রূপ ‘চরদুবলি’

সূর্যাস্তের ছায়ায় আড়িয়াল বিলের নতুন রূপ ‘চরদুবলি’
📷 ছবি: সংগৃহীত
সূর্যাস্তের ছায়ায় আড়িয়াল বিলের নতুন রূপ ‘চরদুবলি’

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার

যেখানে কয়েক বছর আগেও ছিল শুধুই অসীম জলরাশি, কচুরিপানা আর শাপলার রাজত্ব, সেখানে আজ ফুটে উঠেছে এক প্রাণবন্ত পরিপূর্ণ জনপদ। প্রাচীন ও বিস্তীর্ণ আড়িয়াল বিলের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই নতুন গ্রামটির নাম ‘চরদুবলি’। পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে সর্বস্ব হারানো ভিটে মাটিহীন মানুষের অদম্য জীবনসংগ্রাম ও ঘুরে দাঁড়ানোর এক অনন্য প্রতীক এখন এই গ্রাম।
একসময় পদ্মার করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে যায় আশেপাশের বহু বসতি ও বাপ-দাদার ভিটেমাটি। পদ্মার ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়া এসব মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে আড়িয়াল বিলের প্রান্ত ঘেঁষা নিচু জলাভূমিতে আশ্রয় নেন। প্রথমে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে শুরু হলেও ধীরে ধীরে মাটি কেটে ও ভিটি উঁচু করে তারা ঘরবাড়ি গড়ে তোলেন। ফলে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বিস্তীর্ণ জলরাশি রূপ নেয় এক স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামে।
তবে রূপান্তরের পর আজও গ্রামে রয়ে গেছে ছোট-বড়ো অনেক দিঘি ও ডাঙা। পড়ন্ত বিকেলে সূর্যাস্তের আলো যখন এসব ডাঙার পানিতে পড়ে, তখন সেখানে সৃষ্টি হয় এক নয়নাভিরাম ও পুলকিত পরিবেশ।
বর্তমানে ‘চরদুবলি’ গ্রামে দিন দিন মানুষের বসতি ও কর্মচাঞ্চল্য বাড়ছে। বর্ষা মৌসুমে চারদিক পানিতে প্লাবিত হলেও ডিঙি ও কোষা নৌকায় চড়ে এখানকার মানুষ তাদের জীবনযাত্রা সচল রাখেন। গ্রামের ভেতর দিয়ে ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে কাঁচা-পাকা রাস্তাও। আর শুষ্ক মৌসুমে চারপাশের উর্বর পলিমাটিতে শুরু হয় বাম্পার ফসল ও নানা পদের শীতকালীন সবজির চাষ।
পদ্মার ভাঙনে সহায়-সম্পদ হারিয়েও দমে যাননি এখানকার বাসিন্দারা। নিজেদের কঠোর শ্রম ও আত্ম বল দিয়ে পানির ওপর গড়ে তুলেছেন নতুন জীবনের ঠিকানা। নদীভাঙা মানুষের এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প, আর নতুন গ্রাম ‘চরদুবলি’ এখন আড়িয়াল বিল সংলগ্ন অঞ্চলের এক নতুন বিস্ময়।