সারাদেশ

ঝিনাইদহে নিয়োগ ও বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি জামায়াতের বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগ, প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি ও জেলা পরিষদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন

ঝিনাইদহে নিয়োগ ও বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি জামায়াতের বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগ, প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি ও জেলা পরিষদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন

ঝিনাইদহ রিপোর্টারঃ

বিসিআইসি সারের ডিলার নিয়োগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি এবং ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আত্মীয়করণের অভিযোগ নিয়ে জেলায় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঝিনাইদহ জেলা শাখা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ঝিনাইদহ শহরের বাইপাস মোড় এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আলী আজম মো. আবু বকর। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিউর রহমান এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মো. আবু তালেব। এ সময় জেলা জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আলী আজম মো. আবু বকর সরকারি নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং যোগ্যতার মূল্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিসিআইসি সারের ডিলার নিয়োগ এবং প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি নিয়ে ওঠা অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আত্মীয়করণের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারি সেবায় বৈষম্যহীনতা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক মতিউর রহমান বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব থাকা উচিত নয়। যোগ্যতা ও বিধিবিধান অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি নিয়ে ওঠা অভিযোগ যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
অপর বিশেষ অতিথি মাওলানা মো. আবু তালেব বলেন, সারের ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কৃষকদের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি কিংবা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং জনস্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের ছয়টি শূন্য পদে নিয়োগ নিয়ে স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকটি পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে।
অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো সুইপার পদে নিয়োগ। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে পরিচ্ছন্নতার কাজ করে আসা রণজিৎ কুমার নামের এক হরিজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে নিয়োগ না দিয়ে শেখ মোহাম্মদ হাম্মাত নামের এক মুসলিম যুবককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলা পরিষদের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছেলে, ভাতিজা ও অন্যান্য আত্মীয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং নিয়োগসংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নথি পর্যালোচনা ছাড়া অনিয়মের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে এবং সুইপার পদে হরিজন সম্প্রদায়ের এক আবেদনকারী পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকায় বিকল্প প্রার্থী বাছাই করা হয়। একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নিয়োগের বিষয়টি নিয়োগপত্র ইস্যুর পর জানতে পেরেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের নেতারা সরকারি নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। জেলা পরিষদের নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।