বাংলাদেশ

পোশাকশিল্পে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: নিপুণ রায়

পোশাকশিল্পে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: নিপুণ রায়
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী দাবি করছেন, সাভার-আশুলিয়ায় গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতা ও অস্থিরতার পেছনে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের অপচেষ্টা রয়েছে।
আজ ৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকালে, সাভারে ঢাকা জেলা বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এই অভিযোগ করেন। আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনের নেপথ্যে আওয়ামী লীগের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্প যাত্রা শুরু হয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। তাঁর উদ্যোগেই এই শিল্পের বিকাশ ঘটেছে। বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে পোশাক শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও এই খাতের অবদান অপরিসীম।
বিএনপি সবসময় শ্রমিকদের পাশে থেকেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় ১৯৯৪ সালে প্রথম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। পরে ২০০৬ সালেও শ্রমিকদের দাবি বিবেচনায় মজুরি বোর্ড গঠন ও মজুরি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।
নিপুণ রায় বিএনপিকে শ্রমিকবান্ধব রাজনৈতিক দল হিসেবে তুলে ধরেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজেকে শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতেন। তাঁর ছেলে তারেক রহমানও শ্রমজীবী মানুষের সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন। শ্রমিকদের দাবি বিবেচনায় সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছেন, যেখানে শ্রমিক প্রতিনিধি, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
তবে মজুরি বোর্ড গঠনের পরও একটি মহল অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অনেক শ্রমিক কাজে ফিরে গেলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শ্রমিকদের মধ্যে থেকে আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছেন। পোশাকশিল্পকে ঘিরে এমন ষড়যন্ত্র দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।
কোনো ধরনের নৈরাজ্য বা দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র মেনে নেয়া হবে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না। শ্রমিকদের নিরাপত্তা, ন্যায়সংগত মজুরি ও শিল্পের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে বিএনপি সরকারকে সহযোগিতা করবে।
শ্রমিক, মালিক ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। সরকারের উন্নয়ন কর্মক্রম সফল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান নিপুণ রায়।
বিএনপি ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করতে চায় না। জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করার মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতা করতে চায়। দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।