the whole country

দখল- দূষণ অস্তিত্ব সংকটে কালীগঞ্জের চিত্রা নদী অবৈধ স্থাপনা ও বর্জ্য ব্যাহত স্বাভাবিক প্রবাহ নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

দখল- দূষণ অস্তিত্ব সংকটে কালীগঞ্জের চিত্রা নদী অবৈধ স্থাপনা ও বর্জ্য ব্যাহত স্বাভাবিক প্রবাহ নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি


অবৈধ স্থাপনা ও বর্জ্যে ব্যাহত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত চিত্রা নদী দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনার কারণে ক্রমেই অস্তিত্বের সংকটে পড়ছে। নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখল, ময়লা-আবর্জনা ফেলা, পানি দূষণ এবং পলি জমে স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। নদীটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশসচেতন ব্যক্তিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় চিত্রা নদী ছিল এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষিকাজ, মাছের প্রজনন ও নৌযাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নদীর পানি ব্যবহার করে কৃষিকাজসহ দৈনন্দিন নানা প্রয়োজন মেটাতেন স্থানীয়রা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে নদীর বিভিন্ন অংশে দখল, পলি জমা ও দূষণ বাড়তে থাকায় ক্রমেই ব্যাহত হচ্ছে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও পানিপ্রবাহ।

নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে স্থাপনা নির্মাণ এবং নদীর জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কোথাও কোথাও ময়লা-আবর্জনা ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনযাত্রা ও কৃষিকাজেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

পরিবেশসচেতন ব্যক্তিদের মতে, চিত্রা নদী রক্ষায় বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। প্রথমে নদীর সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখল চিহ্নিত করতে হবে। এরপর আইন অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, দূষণের উৎস শনাক্ত, বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত তদারকি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দারা চিত্রা নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের দাবি, নদীটির সীমানা রক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে চিত্রা নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও হ্রাস পেতে পারে।