সারাদেশ

ডিজিটাল শিক্ষায় এগিয়ে লটাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ডিজিটাল শিক্ষায় এগিয়ে লটাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকার দোহার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লটাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। এ বিদ্যালয়ে ২টি ভবন রয়েছে। একটি ৫ তলা ও অন্যটি দোতলা। ঐতিহ্যের পাশাপাশি ডিজিটাল ক্লাসরুম, কম্পিউটার শিক্ষা ও বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কার্যক্রম। সকাল ৯টায় ধর্মীয় পাঠের পর জাতীয় সংগীত ও শরীরচর্চা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শুরু হয় নিয়মিত পাঠদান। শৃঙ্খলা, নৈতিক শিক্ষা ও মানসম্মত পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৪৫২ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন ১২ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের জন্য রয়েছে ডিজিটাল ক্লাসরুম ও কম্পিউটার ল্যাব। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দোহার উপজেলার দুটি বিদ্যালয়ে ডিজিটাল ক্লাসরুম রয়েছে। এর একটি লটাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়া বিদ্যালয়টিতে পাঁচটি কম্পিউটার নিয়ে একটি ল্যাব পরিচালিত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও ভালো ফলাফল অর্জনেও গুরুত্ব দিচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত বছর বিদ্যালয়টি থেকে চারজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পেয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন ট্যালেন্টপুলে এবং একজন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করে। এ বছর বৃত্তি পরীক্ষার জন্য ১৮ জন শিক্ষার্থীকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সালেহীন তার শিক্ষকদের প্রশংসা করে বলে, “স্যাররা অনেক ভালো। আমাদের আদর করেন এবং সন্তানের মতো দেখাশোনা করেন।”
সন্তানের পড়াশোনা ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানান অভিভাবক বিউটি ইসলাম। তিনি বলেন, “এই স্কুলের লেখাপড়ার মান খুব ভালো। পরিবেশও অসাধারণ। আমার মেয়েকে এখানে ছয় বছর পড়িয়েছি। তার পড়াশোনায় সন্তুষ্ট হয়েই ছেলেকেও এই স্কুলে ভর্তি করিয়েছি।”
বিদ্যালয়ের অভিভাবক প্রতিনিধি ও সহসভাপতি সুজন মাহমুদ আনসারী বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ভালো রাখতে অভিভাবকেরা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতা করছেন। তাঁর বড়ো মেয়ে এ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছে। পরে অষ্টম শ্রেণিতেও বৃত্তি অর্জন করেছে। ছোট মেয়েও বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ ভুঁইয়া জানান, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি অতিরিক্ত সময় দিয়ে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে এক ঘণ্টা বিনা মূল্যে বিশেষ পাঠদানের ব্যবস্থা করেছেন।
তিনি জানান, প্রতি ১৫ দিন পরপর ৫০ নম্বরের এবং মাস শেষে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেয়া হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির অগ্রগতি যাচাই করা হচ্ছে। এ বছর ১৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। তাদের মধ্যে অন্তত আট থেকে ১০ জন বৃত্তি পাবে বলে আশা করছেন তিনি। পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করতে পারে বলেও তাঁর প্রত্যাশা।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, বিদ্যালয়ে প্রতি মাসে অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা এবং অভিভাবকদের পরামর্শ গ্রহণ করা হয়। বিদ্যালয়ের ডিজিটাল ক্লাসরুম ও কম্পিউটার ল্যাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির প্রাথমিক ধারণাও দেয়া হচ্ছে। এ কাজে বিদ্যালয়ের আইসিটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা দায়িত্ব পালন করছেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান এবং বৃত্তি পরীক্ষায় সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা একসঙ্গে কাজ করছেন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লটাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবিষ্যতেও মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং শিক্ষার্থীদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।