সাংবাদিক বাবাকে না পেয়ে ১৬ বছরের ছেলেকে থানায় নেওয়ার অভিযোগ, খুলনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
📷 ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা
খুলনা নগরীর খানজাহান আলী থানা এলাকায় এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করতে না পেরে তাঁর ১৬ বছর বয়সী ছেলেকে বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুরে নগরীর গিলাতলা দক্ষিণপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে ওই কিশোরকে থানায় নেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মীর হস্তক্ষেপে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী কিশোর গিলাতলার একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পাশাপাশি সে হেফজ বিভাগেও পড়াশোনা করছে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
কিশোরের মা সুমনা বেগমের অভিযোগ, সোমবার দুপুরে পুলিশ বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ ও গালাগাল করে। একপর্যায়ে তাদের মারধরেরও চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরে থানায় নেওয়ার পর তাঁর ছেলের সামনে তার বাবা সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেককে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিক ও পরিবারের স্বজনদের দাবি, দৈনিক প্রবাহের নিজস্ব প্রতিবেদক সাইফুল্লাহ তারেক সাংবাদিকতার পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। সম্প্রতি এলাকার মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং খানজাহান আলী থানার ওসির কথিত অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়।
পরিবারের অভিযোগ, এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার গফ্ফার ফুড মোড় দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ চারজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হয়। মামলার এজাহারে সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেককে ‘মাদকসেবী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সাইফুল্লাহ তারেকের দাবি, মামলাটি যথাযথ তদন্ত ছাড়াই গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সোমবার মামলার বাদী ও তার সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ তাঁর বাড়িতে যায় এবং তাঁকে না পেয়ে তাঁর নাবালক ছেলেকে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে খুলনা শিশু সুরক্ষা জোটের সভাপতি শামিমা সুলতানা শিলু বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা থাকলে আইন অনুযায়ী তদন্ত করা পুলিশের দায়িত্ব। কিন্তু একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে না পেয়ে তাঁর ১৬ বছর বয়সী সন্তানকে থানায় নেওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে গালাগাল ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার।
ওসি বলেন, ওই কিশোর পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দিয়েছিল এবং পুলিশ সদস্যদের গালাগাল করেছিল। এ কারণে তাকে থানায় আনা হয়। পরে জন্মসনদ দেখে তার বয়স ১৬ বছর নিশ্চিত হওয়ার পর প্রবেশন কর্মকর্তার জিম্মায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে যেখানে পুলিশি হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেখানে পুলিশের দাবি—সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশকে গালাগালের কারণেই কিশোরকে থানায় আনা হয়েছিল। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে ঘটনাটি নিয়ে তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।